বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৫৬ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সাতক্ষীরায় ঘরের মধ্যে চেতনানাশক স্প্রে করে এক পরিবারের সকল সদস্যদের অজ্ঞান করার পর জানালার গ্রিল কেটে ভিতরে ঢুকে স্বর্ণের গহনা ও নগদ টাকাসহ সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার ভোর রাত দুটোর দিকে সদর উপজেলার আগরদাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ চুপড়িয়া গ্রামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
আশংকাজনক অবস্থায় ওই পরিবারের চার সদস্যকে সোমবার সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অজ্ঞান ব্যক্তিরা হলেন, গ্রামের মন্তেজ সরদারের ছেলে সার ও কীটনাশক বিক্রেতা মুজিবর রহমান (৫৫), তার স্ত্রী মেহেরুন্নেছা (৪৫), মেয়ে ফারজানা আক্তার (২৫) ও জামাতা মনির খান (৩০)।
দক্ষিণ চুপড়িয়া গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে ঝাউডাঙা ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসান জানান, তার চাচা মুজিবর রহমানের খালিদ এন্টারপ্রাইজ নামে বাড়িসংলগ্ন সার ও কীটনাশক বিক্রির একটি দোকান রয়েছে। রোববার রাত ১১টার পর চাচা মুজিবর রহমান, চাচী মেহেরুন্নেছা, চাচাত বোন ফারজানা ও দুলাভাই বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী ব্যবস্থাপক মনির খান খাওয়া দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। সোমবার ভোর রাত তিনটার দিকে তার চাচাত ভাই মনিরুলের দুই বছরের বাচ্চা মোবাশ্বের রহমান অসুস্থ হয়ে পড়ায় চাচা মুজিবর রহমানকে ডাকাডাকি করা হলে তাদের কারও কোন সাড়া মেলেনি।
পরে চাচার ঘরে যেয়ে দেখা যায়, ওয়ারড্রপ, আলমারি, শোকেজ ভাঙা। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে বিভিন্ন জিনিসপত্র। গভীর রাতে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা জানালা দিয়ে চেতনানাশক স্প্রে করে পরিবারের চারজনকে অচেতন করে সোনার গহনা ও নগদ টাকাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে বলে তিনি মনে করছেন। তবে মুজিবর রহমানের চেতনা না ফেরা পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা যাবে না।
সাতক্ষীরা সদর হাসপতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অসীম কুমার সরকার জানান, মুজিবর রহমানসহ তাদের পরিবারের চারজনের চেতনা কখন ফিরবে তা এই মুহুর্তে বলা যাবে না। তবে মনির খানের সন্তান সওদামনি আশংকামুক্ত।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিনুল হক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ও সদর হাসপাতালে উপপরিদর্শক মেহেদী হাসানকে পাঠানো হয়।